সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত রামচন্দ্র পোদ্দার ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ। তীব্র গরমে অভিভাবকদের অবর্ণনীয় কষ্ট লাঘবে বসার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে স্কুল প্রাঙ্গণে কয়েক হাজার অভিভাবকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে অভিভাবকদের বিশ্রামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ছাউনি বা বসার ব্যবস্থা না থাকায় প্রখর রোদে ও গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন তারা। বিষয়টি নজরে আসে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং তার পুত্র জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবের। এরপরই এমপির নির্দেশনায় দ্রুত সেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় সোনারগাঁও থানা বিএনপির প্রচার সম্পাদক সেলিম হোসেন দিপু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাহিম এবং পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হযরত আলী রানার নেতৃত্বে অভিভাবকদের জন্য বসার ব্যবস্থা, ফ্যান, বিশুদ্ধ পানীয় পানি ও নাস্তার ব্যবস্থা করা হয়। এতে মানবিক স্বস্তি ফিরে পান অভিভাবকরা। তারা সন্তোষ প্রকাশ করে এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তার জন্য দোয়া করেন।
এ বিষয়ে সেলিম হোসেন দিপু বলেন, অভিভাবকদের বসার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় তারা কষ্ট পাচ্ছিলেন। এমপি সাহেবের নির্দেশে আমরা দ্রুত বসার ব্যবস্থা ও আপ্যায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করি।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন বলেন, মান্নান সাহেবের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিভাবকদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করেছি।
পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাহিম বলেন, তীব্র গরমে অভিভাবকদের এই কষ্ট দেখে। এমপি সাহেব ও তার ছেলেকে জানানো মাত্রই নির্দেশনা দেন অভিভাবকদের এ দুর্ভোগ লাগবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার। সাথে সাথেই আমরা এ উদ্যোগ গ্রহন করি।
পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হযরত আলী রানা বলেন, পরীক্ষার সময় অভিভাবকদের কষ্ট দেখে আমরা পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সবসময় প্রস্তুত থাকবো।
বারদী থেকে আসা অভিভাবক নাসরিন বেগম বলেন, তীব্র গরমে বাচ্চাদের নিয়ে অনেক কষ্ট হচ্ছিল। কোথাও বসার জায়গা ছিল না। পরে এখানে বসার ব্যবস্থা, পানি ও নাস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় আমরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছি।
মোগরাপাড়া থেকে আসা অভিভাবক আমেনা বেগম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা ভেবে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এতে আমরা খুব খুশি। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
বারদীর গোয়ালপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, পরীক্ষার সময় অভিভাবকদের জন্য এমন উদ্যোগ খুবই প্রয়োজনীয়। এতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারছেন এবং শিক্ষার্থীরাও মানসিকভাবে স্বস্তি পাচ্ছে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকা উচিত।
স্থানীয়দের মতে, এমন মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন