২০ বছরের হাহাকার শেষ: নতুন ঘর পেলেন অসহায় সুফিয়া বেগম - sonargaoncrimenews

Breaking

Home Top Ad

 


Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

২০ বছরের হাহাকার শেষ: নতুন ঘর পেলেন অসহায় সুফিয়া বেগম



সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়নে দীর্ঘ ২০ বছরের জরাজীর্ণ জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম। পলিথিন আর কাগজের ছাপড়া ঘরে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করা এই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আমিন হোসেন। এবারের ঈদুল ফিতরে উপহার হিসেবে একটি নতুন টিনের ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত সুফিয়া বেগম।


উপজেলার আলগীর চর এলাকার বাসিন্দা সুফিয়া বেগমের স্বামী মারা গেছেন প্রায় ২০ বছর আগে। সাত সন্তানের জননী হলেও বার্ধক্যের এই সময়ে পাশে নেই কেউ। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে আসা এই বৃদ্ধার গত দুই বছর কেটেছে অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায়। কাগজ ও পলিথিন দিয়ে ঘেরা একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে বাস করতেন তিনি, যেখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি ঢুকে সব ভিজে যেত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই করুণ অবস্থার ভিডিও দেখে এগিয়ে আসেন ইউপি সদস্য আমিন হোসেন।

ঈদের ঠিক আগের দিন সুফিয়া বেগমের সেই জরাজীর্ণ জায়গাতেই সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে একটি নতুন টিনের ঘর তুলে দেন মোঃ আমিন হোসেন। শুধু ঘরই নয়, ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে বৃদ্ধার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন শাড়ি ও ঈদ সামগ্রী।

নতুন ঘর পেয়ে আনন্দাশ্রু সিক্ত কণ্ঠে সুফিয়া বেগম বলেন, আমার কোনো ঘর ছিল না, কাগজের ছাপড়ায় অনেক কষ্টে দিন কাটাইছি। আমিন মেম্বার আমারে ঘর দিছে, কাপড় দিছে। এবারের ঈদ আমার কাছে অনেক আনন্দের। আমি তার জন্য এবং তার পরিবারের জন্য প্রাণভরে দোয়া করি।


এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ আমিন হোসেন বলেন, মানুষের সেবায় আনন্দ পাওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুফিয়া বেগমের আকুতি দেখে আমি স্থির থাকতে পারিনি। কোনো স্বার্থ ছাড়াই অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চাই এবং আজীবন এ ধরনের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চাই।


​স্থানীয়রা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধিদের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজের অবহেলিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages