ঝড়ে ভেঙে পড়েছে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু। সেই ভাঙা ঘরের বদলে নিজের পৈতৃক ও কেনা জমিতে নতুন করে ঘর তুলতে গিয়েই বিপাকে পড়েছেন পঁচাশাপোর্ধ্ব বিধবা নুর জাহান। অভিযোগে জানা গেছে, নতুন ঘর নির্মাণের জন্য তাঁর কাছে দাবি করা হয়েছে দুই লাখ টাকা চাঁদা। চাঁদা দিতে না পারলে নিজের জমিতে ঘর তো দূরের কথা, সেখানে বসবাস করতেও দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের জাঁঙ্গাল গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের মেয়ে নুর জাহান। পোশাক কারখানায় দীর্ঘ দিন কাজ করে জমা করা সঞ্চয় এবং পৈতৃক সূত্রে পাওয়া শ্রীপতিরচর মৌজার ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমিই তাঁর একমাত্র সম্বল। সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে তাঁর টিনশেড ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ধারদেনা ও কষ্টের উপার্জনের টাকায় সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার জন্য ফের একটি ছোট ঘর তোলার কাজ শুরু করলে তিনি চরম বাধার মুখে পড়েন।
নিজের জমিতে নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করতে সোমবার (১০ আগস্ট) সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নুর জাহান।
ভূক্তভোগী নুর জাহানের অভিযোগ, গত ৭ আগস্ট সকালে তিনি নিজের জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় খন্দকার অলি (৬০) ও হাবিবুর রহমান (৫৭)-সহ কয়েকজন এসে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রতিবাদ করায় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার সময়ও নানা হুমকি দেয়।
অসহায় কণ্ঠে নুর জাহান বলেন, আমি গার্মেন্টসে কাজ করি। যা আয় করি, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। ঝড়ে ঘর ভেঙে যাওয়ার পর অনেক কষ্টে আবার ঘর তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। আমি এত টাকা কোথায় পাব? দুই লাখ টাকা চাঁদাও দিতে পারি না, নিজের জমিতে একটা ঘরও উঠাইতে পারি না। তাহলে আমার বৃদ্ধা মা ও সন্তানদের নিয়ে আমি কোথায় থাকব?”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় নুর জাহানের ঘর তোলায় এই বাধা দেওয়া হচ্ছে। স্বামীহারা এই নারী অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেন গ্রামবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত খন্দকার অলি চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ঘর তোলার সময় কথাকাটাকাটি হয়েছে এটা সত্য। তবে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়নি। জমির সীমানা নিয়ে কিছুটা বিরোধ থাকায় এলাকার মুরুব্বীদের নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন