সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে এক মাদকাসক্ত জামাতার নেতৃত্বে শ্বশুরবাড়িতে দফায় দফায় হামলা, লুটপাট ও বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।
এতে একই পরিবারের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী সালেহা বেগম (৪০) পরিবারটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী সালেহা বেগম (৪০) জানান, তার মেয়ে খুকি বেগমের স্বামী জয়নাল একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত। প্রায় এক বছর আগে জামাতার আবদারে তাকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিল পরিবারটি। কিন্তু মাদক সেবনের টাকার জন্য জয়নাল সম্প্রতি সেই মোটরসাইকেলটি মাত্র ৬০ হাজার টাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রাখেন।
গত ৫ মার্চ বিকেলে তালতলা বাজারে এই মোটরসাইকেল বন্ধকের বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে জয়নাল ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রী খুকি বেগম ও শ্যালক আব্দুল মোতালিবকে বেধড়ক মারধর করে আহত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, ওই ঘটনার জেরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জয়নাল তার ২০-২১ জন সশস্ত্র সহযোগীকে নিয়ে সালেহা বেগমের ছোট ভাই সেলিমের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় শফিকুল নামে এক সন্ত্রাসী সেলিমকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করলে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা সেলিমের মুদি দোকান থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে জয়নাল ও তার সহযোগীরা পুনরায় সালেহা বেগমের বসতবাড়িতে চড়াও হয়। সেখানে তারা সালেহা বেগম, তার মেয়ে খুকি বেগম ও নাতনি জুই মনি (১৪)-কে এলোপাতাড়ি মারধর করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় ঘর থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, এসি ও টিভিসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।
সালেহা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, লুটপাট শেষে জয়নাল ও শফিকুল পেট্রোল ঢেলে আমাদের একতলা পাকা বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা আমাদের সবাইকে খুনের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি জয়নাল ও শফিকুলসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ বলেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন