সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল ও ইসমাইল ওরফে বাবুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এই তণ্ডব চালায় বলে জানা গেছে। হামলায় নারীসহ একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
আহতরা হলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শহিদ উল্লাহ (৪০), শহিদ উল্লার বৃদ্ধা মা খাতেমুন (৭০), স্ত্রী আরিফা (৩৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের বাংলা বাজার দৌলতপুর এলাকায় শিশুদের খেলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান জিন্নাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল ও ইসমাইল বাবুর নেতৃত্বে সোহেল, ইসমাইল ওরফে বাবু (৩৫), রুবেল (৩৫), আনন্দ (২০), সোহাগ (২৫), রাতুল (২০), রিয়ান (২০) সহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহিদ উল্লাহর বাড়িতে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা কেবল মারধরই করেনি, বরং ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। আলমারি ভেঙে নগদ ১ লক্ষ টাকা এবং প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় তারা। বর্তমানে আহতরা স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গণমাধ্যমকর্মীরা এলাকায় পৌঁছালে চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেন অভিযুক্ত ইসমাইল ওরফে বাবু। তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে বলেন, সাংবাদিকদের এই এলাকায় ঢুকতে হলে আমার অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হবে। তার এমন বক্তব্যে উপস্থিত সংবাদকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসমাইল বাবুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি এলাকায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসিয়ে যুবসমাজকে বিপথগামী করছেন। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
একজন অসহায় প্রতিবন্ধী ও তার পরিবারের ওপর হামলার পর সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা ও এলাকাভিত্তিক অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর মূলহোতা সোহেল ও বাবুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনার সময় বাজারে ছিলাম। এ বিষয়ে আপনারা বিএনপি নেতা আলেকচানের সাথে কথা বলেন। এই বলে তিনি দ্রুত ফোন কেটে দেন।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিবুল্লাহ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন