সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের আশপাশের এলাকায় ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই মধ্যে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও এলাকায় জনতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় পৃথক অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে পিরোজপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দী গ্রামের মৃত হেলাল মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (২৭) নামের এক যুবককে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ডাকাত সন্দেহে হাতে-নাতে আটক করেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকরা। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে ডাকাত নয় বলে দাবি করে এবং ইয়াবা বড়ি পাচারকারী একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে একই দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মৃধাকান্দী এলাকায় ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের কাজীরগাও (বাগবাড়ী) গ্রামের জাকিরের ছেলে রবিন (২৫) কে জনতা আটক করে। পরে সোনারগাঁ থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে আটক দুজনই সোনারগাঁ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে সম্প্রতি ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এসব ডাকাত দলের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মহিবুল্লাহ বলেন, “মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে আমরা বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় কাজ করছি। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।”
এলাকাবাসীরা সোনারগাঁ থানার ওসি মোঃ মহিবুল্লাহর বিচক্ষণ পরিকল্পনা ও সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, পুলিশের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশাবাদী।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন