সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপর গত মঙ্গলবার বিকেলে দুর্বৃত্তদের হামলার প্রতিবাদে বুধবার সকাল ১০ ঘটিকা হইতে ২ ঘন্টা যাবত উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়টির প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত, সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মহিবুল্লাহ ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিক্ষোভস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনেন এবং তাদের দেয়া স্মারকলিপি গ্রহন করেন। সেই সাথে শিক্ষকের উপর হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন এবং বিক্ষোভ মিছিল থেকে সরে গিয়ে সোনারগাঁ থানায় ওই শিক্ষককে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট দেশে পটপরিবর্তনের পর তৎকালিন প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমানকে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশে স্কুল থেকে বের করে দেন হামলার শিকার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। সেই থেকে দুই শিক্ষকদের মধ্যে কঠোর বিরোধ চলে আসছিল। তৎকালিন প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত তার পক্ষে রায় প্রদান করার পর পূনরায় বিদ্যালয়ের দায়িত্ব বুঝে নেন। এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ওই রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেন। আদালতে রিট চলমান। বর্তমানে দু’জনেই নিজেদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাবী করছেন এবং নিয়মিত স্কুলে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অবিভাবক জানান, মূলত দুই প্রধান শিক্ষকের দ্বন্ধে ইন্ধন দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক নেতা। বিদ্যালয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য দুটি গ্রুপ করে রেখেছেন। এ অবস্থা থেকে সরে আসতে না পারলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ার মান নষ্ট হবে, সেই সাথে যেকোন সময় খুন-খারাবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিবুল্লাহ জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং সেটা ভিন্ন বিষয়, তবে শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে উপজেলা চত্বরে এসে ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করা ঠিক হয়নি। আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছি৷ ভবিষ্যতে যাহাতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ঠিকঠাক পরিচালিত হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন