সোনারগাঁ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত চারটি চুন কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কারখানাগুলো ভেঙে দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলার সোনাখালী, পিরোজপুর (গোলাবাড়ি) ও প্রতাবনগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত চারটি চুন কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ পাইপ ও বার্নার।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল-এর নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, অভিযান চলাকালে কারখানাগুলোয় ব্যবহৃত প্রায় ৬০০ ফুট দীর্ঘ অবৈধ পাইপলাইন এবং ৪টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বার্নার জব্দ করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। অবৈধ কারখানার মূল অবকাঠামো ও চুল্লি ভেঙে দেওয়া হয়।
তিতাস গ্যাসের মেঘনাঘাট আঞ্চলিক বিপণন কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সুরজিত কুমার জানান, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে তিতাসের মূল বিতরণ লাইন থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ, বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে সংযোগ নিয়ে এসব চুন কারখানা পরিচালনা করে আসছিল। এসব কারখানায় কোনো প্রকার বৈধ অনুমোদন বা মিটার না থাকায় সরকার প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতি প্রতিরোধে তিতাস গ্যাসের এই নিয়মিত চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগ গ্রহণ, সরবরাহ এবং এর নেপথ্যে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযান পরিচালনাকালে তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান, প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামসহ কারিগরি দলের সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন